October 8, 2026, 9:07 am

বাজেটে ভ্যাট কমানোর দাবি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের

বাজেটে ভ্যাট কমানোর দাবি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের

দেশের সব হোটেল-রেস্টুরেন্টে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শ্রেণিভিত্তিক ভ্যাট আরোপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা। সেক্ষেত্রে চার ও পাঁচ তারকা হোটেল-রেস্টুরেন্টের ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ রেখে বিদেশি খাবার বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ এবং নিম্ন ও মাঝারিমানের রেস্টুরেন্ট এবং স্ট্রিট ফুডের জন্য ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (১২ জুন) বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাকক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় সমিতির সভাপতি ওসমান গনি, উপদেষ্টা খন্দকার রুহুল আমিন, মহাসচিব ইমরান হাসান, যুগ্ম-মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন/ক্যাফেটেরিয়া, শিল্পকারখানার ক্যান্টিন/ক্যাফেটেরিয়া ও হোস্টেলের খাবারের ওপর ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দেশে বিভিন্ন শ্রেণির হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। তাদের ব্যবসায়িক পরিধিও একেক রকম। কিন্তু সাবিকভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্তিযুক্ত নয়। ভ্যাটের হার বেশি হওয়ায় অনেকে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আর যারা নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছেন, তারা পড়ছেন বিপদে। তাদের খাবারের দাম বেশি হওয়ায়, যারা ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, এ কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সঠিক হারে ভ্যাট নির্ধারণ করে এ খাত থেকে ২৩শ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করা সম্ভব।

ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি রেস্টুরেন্টগুলোকে একটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আওতায় নেয়া এবং শিল্পের মর্যাদার দাবি জানিয়ে বলা হয়, সরকারের ১৩টি সংস্থা রেস্টুরেন্টগুলোকে পরিচালনা করছে। ব্যবসা পরিচালনার জন্য এতো সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। লাইসেন্স নিতে হয়। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করতে প্রচুর খরচ হয়।

এছাড়া বলা হয়, হোটেল রেস্তোরা খাতকে শিল্প মর্যাদা না দেয়ার কারণে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির জন্য অধিক বিল বহন করতে হচ্ছে। যাতে খাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উদ্যোক্তারা।

সভাপতি ওসমান গনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসগুলো স্বেচ্ছাচারী ব্যবসা পরিচালনা করছে। যা এই হোটেল-রেস্তোঁরা খাতকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। তাদের কারণে এ খাতের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি তারা বড়দের প্রমোশন করছে ফলে ছোটরা পিছিয়ে পড়ছে।

এদিকে করোনা সংকট মোকাবেলায় হোটেল রেস্তোঁরা খাতের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে ছয় মাসের প্রণোদনা চাওয়া হয়। করোনার সময় অধেক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে জানিয়ে তাদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রনোদনা প্রদান অথবা জুলাই ২০২১ইং থেকে ডিসেম্বর ২০২১ইং পর্যন্ত কর্মচারীদের করোনাকালীন মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন রেস্তোরাঁকে জরিমানার প্রসঙ্গ তুলে ইমরান হাসান বলেন, আমরা মোবাইল কোর্টের বিপক্ষে নই। তবে মোবাইল কোর্টের প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এতে শুধু জরিমানাই হচ্ছে, কোনো সমাধান হচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে জরিমানা করা হচ্ছে। যা রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর একটি প্রহসন।

ভ্যাট আদায়ে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়, তৃতীয়পক্ষের ভাড়া করা লোকের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। ভ্যাট কর্মকর্তাদের অসৌজন্য ও হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধে সরকার প্রধানের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন থাকছে।

বিজনেস নিউজ/এমআর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com